বক্তৃতা | Speech
August 10, 2026
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বক্তব্য ২০২৬ | Independence Day Speech in Bengali 2026
ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বক্তৃতা PDF | Independence Day Speech in Bengali 2026 PDF Download
![]() |
| স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বক্তব্য ২০২৬ | Independence Day Speech in Bengali 2026 |
কলম ✏
সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আপনারা যারা স্কুল, কলেজ, কোচিং সেন্টার, ক্লাব বা অফিসে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বক্তৃতা, বক্তব্য বা ভাষণ দেওয়ার জন্য একটি সুন্দর ও গুছানো লেখা খুঁজছেন, তাঁদের জন্যই আমাদের আজকের এই আয়োজন।
আপনাকে হয়তো স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কীভাবে বক্তব্য শুরু করবেন, কোন বিষয়গুলি পরপর তুলে ধরবেন এবং কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে একটি সুন্দর ও প্রভাবশালী বক্তব্য সবার সামনে উপস্থাপন করবেন—তা নিয়ে হয়তো কিছুটা চিন্তায় রয়েছেন।
চিন্তার কোনো কারণ নেই। এই পোস্টে আমরা ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ, স্বাধীনতার গুরুত্ব, দেশপ্রেম, নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব এবং বর্তমান প্রজন্মের ভূমিকা—এই বিষয়গুলিকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য তুলে ধরেছি।
আশা করি, এই স্বাধীনতা দিবসের বক্তব্য আপনাকে মঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে এবং আপনার বক্তব্যকে আরও সুন্দর, তথ্যসমৃদ্ধ ও হৃদয়গ্রাহী করে তুলতে সাহায্য করবে।
ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বক্তব্য
আমার প্রিয় দেশবাসীগণ,
৮০তম স্বাধীনতা দিবসের এই মহতী অনুষ্ঠানে উপস্থিত আপনাদের সকলকে এবং গোটা বিশ্বে ভারতকে ভালোবাসেন, গণতন্ত্রকে ভালোবাসেন—এমন সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।
আজ স্বাধীনতা মহোৎসবের এই পবিত্র পর্বে আমরা আমাদের সমস্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। একইসঙ্গে দেশের সুরক্ষায় দিনরাত এক করে নিজেদের উৎসর্গ করে চলা সমস্ত বীরাঙ্গনা ও বীরদের জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
১৭৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেওয়ানি লাভের পরবর্তী সুদীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের পরাধীনতার গ্লানিকে স্বাধীনতার গণআন্দোলনে রূপান্তরিত করা পূজনীয় বাপু থেকে শুরু করে স্বাধীনতার জন্য নিজেদের সমস্ত কিছু বিলিয়ে দেওয়া নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ভগত সিং, চন্দ্রশেখর আজাদ, বিসমিল ও আশফাকুল্লাহ খানের মতো মহান মুক্তিসেনানী থেকে শুরু করে ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই কিংবা মাতঙ্গিনী হাজরার দুঃসাহসী লড়াই—সবকিছুকেই আমরা আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।
দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত নেহরুজি থেকে শুরু করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল কিংবা ভারত গঠনের দিশা নির্দেশকারী, পথ নির্মাণকারী বাবাসাহেব আম্বেদকরসহ প্রত্যেক ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্বকে আমরা আজ স্মরণ করি, যাঁদের কাছে আমরা চিরঋণী।
ভারত এক বহুরত্না বসুন্ধরা। আজ ভারতের প্রতিটি প্রান্তে, প্রতিটি সময়খণ্ডে অসংখ্য মানুষ রয়েছেন, যাঁদের নাম হয়তো ইতিহাসের পাতায় খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাঁরাই এই দেশ গড়েছেন এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আমরা সেই সমস্ত মানুষকে শ্রদ্ধা জানাই।
ভারত বহু শতাব্দী ধরে মাতৃভূমি, সংস্কৃতি এবং স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে। পরাধীনতার গ্লানি ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা—এই দেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কখনও পরিত্যাগ করেনি। যতই জয় কিংবা পরাজয় আসুক না কেন, মনের মন্দিরে লালন করে আসা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে কখনও ফুরিয়ে যেতে দেয়নি।
স্বাধীনতা দিবস হল ভারতের একটি জাতীয় দিবস। ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রতি বছর ১৫ই আগস্ট তারিখটি ভারতে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
সতেরোশ শতাব্দীর মধ্যেই ইউরোপীয় বণিকেরা ভারতীয় উপমহাদেশে তাঁদের বাণিজ্যকুঠি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আঠারোশ শতাব্দীর মধ্যে অপ্রতিরোধ্য সামরিক শক্তির জোরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করে। ১৮৫৭ সালের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের পরের বছর ভারত শাসন আইন পাস হয়। ওই আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজশক্তি কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতের শাসনভার নিজেদের হাতে তুলে নেয়।
তৎকালীন সময়ে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ থেকে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর নেতৃত্বে অহিংস অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলন ক্রমশ ঘনীভূত হয়। এর ফলে স্বাধীনতা আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
১৯২৯ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজ ঘোষণাপত্র বা ‘ভারতের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ গৃহীত হয়। ২৬শে জানুয়ারি তারিখটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কংগ্রেস জনগণকে আইন অমান্যের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায় এবং যতদিন না ভারত সম্পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করছে, ততদিন কংগ্রেসের নির্দেশ পালন করতে বলা হয়। ১৯৩০ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত ২৬শে জানুয়ারি তারিখটি কংগ্রেস স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে, ১৯৪৬ সালে, যুক্তরাজ্যের সরকারি অর্থভাণ্ডার নিঃশেষিত হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় সদ্য-নির্বাচিত লেবার সরকার অনুভব করে যে, ক্রমাগত অস্থির হয়ে ওঠা ভারতের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষেত্রে ব্রিটেনের জনসাধারণের সমর্থন পাওয়া যাবে না। এই কাজে আন্তর্জাতিক সাহায্য পাওয়াও অসম্ভব হবে। তাছাড়া স্থানীয় সেনাবাহিনীও যে এই কাজে নির্ভরযোগ্য হবে না, সরকার তা উপলব্ধি করে।
এমতাবস্থায় ১৯৪৭ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলি ঘোষণা করেন যে, ১৯৪৮ সালের ৩০শে জুনের মধ্যেই ব্রিটিশ সরকার ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা অনুমোদন করতে চলেছে।
স্বাধীনতা ঘোষণার সময় যত এগিয়ে আসতে থাকে, পাঞ্জাব ও বাংলা প্রদেশের হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাও তত বৃদ্ধি পেতে থাকে। দাঙ্গা রোধে ব্রিটিশ বাহিনীর অক্ষমতার কথা মাথায় রেখে ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড লুইস মাউন্টব্যাটেন ক্ষমতা হস্তান্তরের দিনটি প্রায় দশ মাস এগিয়ে আনেন।
ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ১৯৪৭ সালের জুন মাসে জওহরলাল নেহরু, আবুল কালাম আজাদ, মহম্মদ আলি জিন্নাহ, ভীমরাও রামজি আম্বেদকর প্রমুখ জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দ ধর্মের ভিত্তিতে ভারত বিভাগের প্রস্তাব মেনে নেন। হিন্দু ও শিখ সংখ্যাগুরু অঞ্চলগুলি ভারতের সঙ্গে এবং মুসলমান সংখ্যাগুরু অঞ্চলগুলি নবগঠিত রাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর ফলে পাঞ্জাব ও বাংলা প্রদেশ দ্বিখণ্ডিত হয়।
দেশভাগের গভীর বেদনা ও কষ্টের মধ্যেই ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট নতুন পাকিস্তান অধিরাজ্যের জন্ম হয়। এরপর মধ্যরাতে, অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট সূচিত হলে, জওহরলাল নেহরু তাঁর বিখ্যাত ‘নিয়তির সঙ্গে অভিসার’ (Tryst with Destiny) ভাষণ প্রদানের মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন।
একবিংশ শতাব্দীতে ভারতের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাগুলিকে বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে কোনও বাধাই এখন আমাদের থামাতে পারবে না। আমাদের শক্তিই আমাদের প্রাণচাঞ্চল্য, আমাদের শক্তিই আমাদের ঐক্যবদ্ধতা। আমাদের প্রাণশক্তি হলো—‘রাষ্ট্র সর্বাগ্রে, সর্বদাই সর্বাগ্রে’-এর ভাবনা।
এই সময় হল মিলিতভাবে স্বপ্ন দেখার। এই সময় হল সবাই মিলে সংকল্প নেওয়ার। এই সময় হল সবাই মিলে চেষ্টা করে যাওয়ার এবং এই সময় হল আমাদের বিজয়ের পথে এগিয়ে চলার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে এবং সমগ্র দেশবাসীকে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আরও একবার জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা।
জয় হিন্দ!
বন্দে মাতরম!
ভারত মাতার জয়!
⬇️ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বক্তব্য PDF ডাউনলোড লিঙ্ক নিচে দেওয়া রয়েছে।
File Details:- PDF Name: Independence Day Speech in Bengali 2026
- Language: Bengali
- Size: 01 mb
- Total Pages: 02





