Breaking







Sunday, 27 September 2026

September 27, 2026

মহাত্মা গান্ধীর জীবনী | Mahatma Gandhi Biography in Bengali

মহাত্মা গান্ধীর জীবনী PDF | Mahatma Gandhi Biography in Bengali PDF

মহাত্মা গান্ধীর জীবনী | Mahatma Gandhi Biography in Bengali
মহাত্মা গান্ধীর জীবনী | Mahatma Gandhi Biography in Bengali
কলম ✏
সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আজকের পোস্টে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা মহাত্মা গান্ধীর জীবনী তুলে ধরা হলো। এখানে গান্ধীজির শৈশব জীবন, শিক্ষা জীবন, কর্মজীবন, স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা, সম্মাননা এবং জীবনাবসান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

মহাত্মা গান্ধীর জীবনী


মায়ের দেওয়া মোটা কাপড়
মাথায় তুলে নে রে ভাই;
দীন-দুঃখিনী মা যে তোদের
তার বেশী আর সাধ্য নাই।

বিদেশী পণ্য বর্জন ও দেশীয় পণ্য গ্রহণের মাধ্যমে সমগ্র ভারতবাসীর মধ্যে যিনি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন স্বাধীনতা জয় গান, তিনি হলেন জাতির জনক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ওরফে মহাত্মা গান্ধী। সত্য ও অহিংসা ছিল যার পরম গুরু।

পরিচিতি বিবরণ
নামমোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী
জন্ম২ অক্টোবর ১৮৬৯
জন্মস্থানপোরবন্দর, গুজরাট, ব্রিটিশ ভারত
অন্যান্য নামমহাত্মা গান্ধী, বাপুজি, গান্ধীজি
মৃত্যু৩০ জানুয়ারি ১৯৪৮

জাতির জনক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ২রা অক্টোবর ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতবর্ষের অন্তর্গত কাথীয়াবাড় প্রদেশের পোরবন্দরের এক জনৈক বেনিয়া হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা করমচাঁদ উত্তরচাঁদ গান্ধী এক প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রনেতা ছিলেন এবং তাঁর মাতা পূত্তলিবাই ছিলেন হিন্দু শাস্ত্র মতে একজন নিষ্ঠাবান মহিলা। গান্ধীজি ১৩ বছর বয়সে সমবয়সী কস্তুরবা এর সহিত বিবাহ সম্পন্ন করেন এবং চার সন্তানের পিতাও হন।

শিক্ষা জীবন

শৈশব অবস্থা থেকেই পিতার কাছ থেকে সত্য ও সাহসের শিক্ষার পাশাপাশি মাতার কাছে পেয়েছেন কঠোর ব্রত পালনের শিক্ষা। এরপর কাথিয়াবাড়ে বাল্য শিক্ষা সম্পন্ন করে ১৮ বছর বয়সে ম্যাট্রিক পাশ করেন। বড়ো ভাইয়ের ইচ্ছাস্বরূপ ব্যারিস্টারী পড়তে বিলাতে যেতে চাইলে পরিবার পরিজন ছেড়ে ১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দে বিলাতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সেখানে কঠোর অধ্যবসার মাধ্যমে ১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দে ব্যারিস্টারী পাশ করে দেশে ফেরেন।

কর্ম জীবন

বিলেত থেকে ব্যারিস্টারি শিক্ষায় সফলতা লাভের পর আইনজীবী হিসাবে কাজ করতে থাকেন। তার পরবর্তীতে আব্দুল্লা এন্ড সন্স এর আইনজীবি হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেন, যা গান্ধীজির জীবনে এনে দেয় নাটকীয় পরিবর্তন। এখানে তিনি ভারতীয় ও কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি সাধারণত বৈষম্যের স্বীকার হন, তাই সেখানে ভারতীয়দের অধিকার সচেতন করে তুলতে ১৮৯৪ সালে নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানকার ভারতীয়দের নিয়ে রাজনৈতিকভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ আন্দোলন শুরু করেন। এরপর ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ৯ই জানুয়ারী ভারতবর্ষে পুনরায় প্রত্যাগমন করার মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে ভারতীয় রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করেন।

চম্পারন ও খেদা সত্যাগ্রহ আন্দোলন

১৯১৮ সালের চম্পারণ বিক্ষোপ ও খেদা সত্যাগ্রহ আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার প্রস্যুত জমিদারদের কৃষক সমাজের প্রতি বর্বরোচিত অত্যাচার ও খাজনা আদায়ের বিরুদ্ধে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের সহযোগে আন্দোলন শুরু করেন। ফলস্বরূপ খাজনা আদায় বন্ধ ও বন্দীদের মুক্তিদান করেন।

অসহযোগ আন্দোলন

গান্ধীজির মতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র হওয়া প্রয়োজন অসহযোগ ও শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ করা। পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে ভারতীয়দের ওপর বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা করেন এবং ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোপ ঘোষণা করেন। স্বরাজের দাবিতে ১৯২১ সালে গান্ধীজি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নির্বাহী হন। স্বরাজের দাবিতে খাদি চরকিতে সুতা কাটার মাধ্যমে বিদেশী পণ্য বর্জন স্বদেশী পণ্য গ্রহণের আহ্বান জানান। এসময় অসহযোগ আন্দোলন জনপ্রিয়তা ও সাফল্য অর্জন করে। অপ্রত্যাশিতভাবে উত্তরপ্রদেশের চৌরিচৌরাতে সংঘর্ষ বাঁধলে এ আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

স্বরাজ ও লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলন

বিংশ শতাব্দীর ২০ দশকে নিজেকে নীরব রাখার মাধ্যমে স্বরাজ পার্টি ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে বাধা দূর করার চেষ্টা করেন। ১৯২৮ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ভারতকে ডোমিনিয়মের মর্যাদা দেবার দাবি জানানোর মাধ্যমে পূর্ণ স্বাধীনতার লক্ষ্যে হুমকি দেন। ১৯২৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর জাতীয় পতাকা উন্মোচন ও ১৯৩০ সালের ২৬শে জানুয়ারী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এই দিনটিকে প্রথম স্বাধীনতা দিবস হিসাবে পালন করে।

এসময় প্রত্যাহিক অত্যাব্শকিয় পণ্য লবণের উপর কর আরোপের বিরুদ্ধে লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলন কুচকাওয়াজ করেন। আত্মনির্ভরভাবে নিজ হাতে লবণ তৈরির উদ্দেশ্যে এলাহাবাদ থেকে ডান্ডি পযর্ন্ত ৪০০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে যায়। 

এই আন্দোলন সফল হলে ব্রিটিশ সরকার ৬০০০০ জন ভারতীয়কে গ্রেফতার করে। ১৯৪১ সালে গান্ধী - ডারউইন অ্যাক্ট এর মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলন বন্ধের বিনিময়ে বন্দীদের মুক্তি আদায় করেন ও স্বাধীনতার পথ সুপ্রস্থ করেন।

গান্ধীজির শিক্ষানীতি

গান্ধীজির লক্ষ্যই ছিল সত্যের পথে শিক্ষাকে অবৈতনিক সর্বসাধারণের জন্য প্রতিষ্ঠিত করা। তিনি ছিলেন শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষার পক্ষপাতি। ভারতবর্ষের বুনিয়াদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠাই ছিল তার অমর কৃতি।

সম্মাননা

স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা আধ্যাতিক চেতনার অধিকারী মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর খ্যাতি শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং সমগ্র বিশ্ব জুড়ে মহাত্মা গান্ধী নামে পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ছিলেন সমগ্র ভারতবাসীর জাতির জনক তাই ভারত সরকারের তরফে ২রা অক্টোবর তার জন্মদিনে গান্ধী জয়ন্তী উদযাপন করে থাকেন। ২০০৭ সালে ১৫ই জুন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনটিকে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস দিবস হিসাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়াও ভারতীয় সংসদ ভবনে গান্ধীজির প্রতিমূর্তি স্থাপন করা হয়েছে।

জীবনাবসান

স্বাধীনতার প্রতি কঠোর সংগ্রাম করা গান্ধীজি মহাশয় পাননি স্বাধীনতার চরমস্বাদ। বরং ১৯৪৮ সালে ৩০শে জানুয়ারী দিল্লীতে অনুষ্ঠিত এক প্রার্থনা সভায় নাথুরাম গডসের করা গুলিতে নিহত হন।
⬇️ মহাত্মা গান্ধীর জীবনী PDF ডাউনলোড লিঙ্ক নীচে দেওয়া রয়েছে।
File Details:
  • PDF Name: Mahatma Gandhi Biography
  • Language: Bengali
  • Size: 01 mb 
  • Total Pages: 02
September 27, 2026

ভগৎ সিং এর জীবনী | Bhagat Singh Biography in Bengali

ভগৎ সিং এর জীবনী PDF | Bhagat Singh Biography in Bengali PDF

ভগৎ সিং এর জীবনী PDF | Bhagat Singh Biography in Bengali PDF
ভগৎ সিং এর জীবনী | Bhagat Singh Biography in Bengali
কলম ✏
সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আজকের পোস্টে ভারতের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী ভগৎ সিং-এর জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। এখানে ভগৎ সিং-এর শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, বিপ্লবী কর্মকাণ্ড, জীবন ও সম্মাননা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তাই ভগৎ সিং-এর জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পোস্টটি ভালোভাবে দেখে নিন এবং প্রয়োজনে ভগৎ সিং-এর জীবনী PDF সংগ্রহ করে রাখতে পারেন।

ভগৎ সিং এর জীবনী


অন্ধকার ছিল যখন
এই ভারতমাতার বুকে,
তোমার মতো বীরসেনানী
আলো দেখলো স্বাধীনতার চিত্তে।

ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে অন্যতম জাতীয়তাবাদী প্রভাবশালী ব্যক্তি ভগৎ সিং। যাহার জীবন সংগ্রাম মাতৃসম ভারতমাতাকে এনে দিয়েছেন স্বাধীনতার স্বাদ। তার এরূপ বিপ্লবী মনোভাব ভারতীয় যুবকদের মধ্যে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটায়।

পরিচিতি বিবরণ
নামভগৎ সিং বা ভগৎ সিংহ
জন্ম২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯০৭
জন্মস্থানলায়ালপুর, পাঞ্জাব, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু২৩ মার্চ, ১৯৩১

ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী ভগৎ সিং ২৮শে সেপ্টেম্বর ১৯০৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লায়ালপুর জেলার নিকটস্থ খাতকর কালান গ্রামের এক জট সান্ধু শিখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সর্দার কিষান সিংহ সান্ধু মাতা বিদ্যাবতী ও পরিবারের প্রায় সকলেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে দেশপ্রেমিক শিখ পরিবারের সদস্য। বলাবাহুল্য ভগৎ সিংয়ের দাদাঠাকুর অর্জুন সিংহ ছিলেন হিন্দু সমাজ সংস্কার আন্দোলনের তথা আর্য সমাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সময়ের পরবর্তীতে ভগৎ সিংও এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

শিক্ষা জীবন

তৎকালীন সময়ে অধিকাংশ স্কুলে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের আনুগত্য পালন করার জন্য ঠাকুরদা ওই সকল স্কুলে পাঠাতে রাজি ছিলেন না। তাই ভগৎ সিং এর পিতা তাঁকে আর্যসমাজি বিদ্যালয় দয়ানন্দ অ্যা‍ংলো বৈদিক স্কুলে ভর্তি করেন। সেখান প্রকাশ্যে ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরোধিতা পূর্বক স্কুলের পাঠ্যবই ও বিলাতি স্কুল ইউনিফর্ম পুড়িয়ে মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। এখান থেকেই তার স্বাধীনতা সংগ্রামের সূত্রপাত ঘটে।

মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে যোগদানের কিছু দিন পরেই চৌরি-চৌরা গণহিংসায় কয়েকজন পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হলে গান্ধীজি আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলে হতাশাগ্রস্থ ভগৎ সিং যুব বিপ্লবী আন্দোলনে যোগদান করেন। সেখানে সশস্ত্র বিপ্লবের পন্থায় ভারত থেকে ব্রিটিশ শাসন উৎখাত করার কথা প্রচার শুরু করেন।

কিশোর বয়সে লাহোরের ন্যাশানাল কলেজে পড়াশোনা আরম্ভ করলেও বাল্য বিবাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

কর্ম জীবন-স্বাধীনতা সংগ্রাম

বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি 'নওজাওয়ান ভারত সভা' সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে যোগদান করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তার সহকর্মী যুবকদের মধ্যে জনপ্রিয়ও হয়ে ওঠেন। এরপর প্রফেসর বিদ্যালংকরের পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে হিন্দুস্থান রিপাবলিক এসোসিয়েশনে যোগদান করেন। এই সংগঠনের কর্মকান্ড হিসাবে 'কাকরি ট্রেন লুঠ' করতে গেলেও অজ্ঞাত কারণে লাহোরে ফিরে আসেন। ১৯২৬ সালের অক্টোবর মাসে নবরাত্রিতে লাহোরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটলে, ভগৎ সিংকে লাহোর বোমা বিস্ফোরণ মামলায় গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পাঁচ সপ্তাহ পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এই সময়ে তিনি অমৃতসর থেকে পাঞ্জাবী ও উর্দু ভাষায় পত্রিকা লেখেন তার পাশাপাশি সম্পাদনাও করেন । ১৯২৮ সালে অক্টোবর মাসে 'কৃতি কৃষাণ পার্টি' পতাকাতলে সমগ্র ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা একত্রিত হলে ওই সভায় তিনি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে তার বৈপ্লবিক কর্মকান্ডের জেরে তাকে ঐ সমিতির প্রধান বানানো হয়।

এছাড়াও জেলে ভারতীয় ও ব্রিটিশ বন্দীদের সমানাধিকারের দাবিতে সমর্থন আদায় করা ছিল তার ঐকাংক্ষিক প্রচেষ্টা। প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী লালা লাজপত রায়ের হত্যার প্রতিশোধে হিন্দুস্থান সোশ‍্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে ভগৎ সিং এবং শিবরাম রাজগুরু এক ব্রিটিশ পুলিশ সুপার জেমস স্কটকে হত্যা করতে চাইলে ভুল বশতঃ ২১ বছর বয়সী ব্রিটিশ সুপারিন্টেড মিস্টার স্যান্ডার্সকে প্রথমে বোমা মেরে আহত করে তারপর তিনি কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করেন। ভগৎ সিং ও রাজগুরু পালিয়ে যাওয়ার সময় একজন ভারতীয় পুলিশ কনস্টেবল ধাওয়া করলে অপর এক সহযোগী চন্দ্র শেখর আজাদ চেন্নান সিংকে গুলি করে হত্যা করেন।

পালিয়ে যাওয়ার পর ভগৎ সিং ও তার সহযোদ্ধারা প্রকাশ্যে লালা লাজপত রায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এরপর ভগৎ সিং কিছুদিন পলাতক থাকার পর পিতার সুপারিশ মতো ১৯২৯ সালের এপ্রিল মাসে এক সহযোগী বটুকেশ্বর দত্তের সহযোগে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় বিধানসভায় কম তীব্রতার দুটি বোমা ফেলেন। গ্যালারি থেকে নিচে বসে থাকা বিধায়কদের উপর লিফলেট বর্ষণ করে স্লোগান দেন ও কর্তৃপক্ষকে গ্রেফতার করার অনুমতি দেন। গ্রেফতারের পর সন্ডার্স হত্যাকান্ড মামলায় কারাবাস করেন। বিচারের অপেক্ষায় ভগৎ সিং ও সহ আসামী যতীন দাস কারাগারে ভারতীয় বন্দিদের ভালো অবস্থার দাবিতে অনশন করতে থাকেন। দীর্ঘ ৬৪ দিন অনশন করার পর অনাহারে যতীন দাসের মৃত্যু হয়। এরপর জন সোন্ডার্স ও চেন্নান সিং হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন।

সম্মাননা

২০১৫ সালের ১৫ই আগস্ট প্রাপ্তন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা দেবী সিং পাটিল মহাশয়া বিপ্লবী ভগৎ সিংয়ের সম্মানার্থে সংসদ ভবনে মূর্তি উন্মোচন করেন। ২০০৭ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর ভগৎ সিংয়ের জন্মদিন উপলক্ষে ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট ঐতিহাসিক বিষয়গুলি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে জাদুঘর নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও ভগৎ সিংয়ের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পৈতৃক ভিটে খটকার কালানে শহীদ-ই-আজম সর্দার ভগৎ সিং মিউজিয়াম স্থাপন করা হয়েছে। ১৯৬৮ সালে ভগৎ সিং এর সম্মানার্থে ২০ টাকার ডাকটিকিট ও ২০১২ সালে ৫ টাকার কয়েন প্রেরণ করেন। 

সম্প্রতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী ছত্রিশগড় বিমানবন্দরের নামের পরিবর্তে 'শহীদ ভগৎ সিং এয়ারপোর্ট' নাম করার ঘোষণা করেছেন।

মৃত্যুবরণ

জন সোন্ডার্স ও চেন্নান সিং হত্যা মামলায় ২৩শে মার্চ ১৯৩১ সালে মাত্র ২৩ বৎসর বয়সে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোর জেলে ফাঁসিতে মৃত্যুবরণ করেন।
⬇️ ভগৎ সিং এর জীবনী PDF ডাউনলোড লিঙ্ক নীচে দেওয়া রয়েছে।
File Details:
  • PDF Name: Bhagat Singh Biography
  • Language: Bengali
  • Size: 01 mb 
  • Total Pages: 02
September 27, 2026

Today Current Affairs in Bengali | 27 September 2026

Daily Current Affairs in Bengali - 27 September 2026 for Competitive Exams

Daily Current Affairs in Bengali - 27 September 2026 for Competitive Exams
Today Current Affairs in Bengali | 27 September 2026
কলম ✏
সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আজকের 27th September 2026 Current Affairs in Bengali অংশে জাতীয়, আন্তর্জাতিক, খেলাধুলা, পুরস্কার, বিজ্ঞান ও গুরুত্বপূর্ণ দিবস সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হয়েছে। এই প্রশ্নগুলি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

27th September 2026 Current Affairs in Bengali


1.বিশ্ব পর্যটন দিবস পালন করা হয় কবে?
২৭শে সেপ্টেম্বর
২৮শে সেপ্টেম্বর
২৯শে সেপ্টেম্বর
৩০শে সেপ্টেম্বর

2.কোন হাইকোর্টের ৩০তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন বিচারপতি Alpesh Yeshvant Kogje?
রাজস্থান
মধ্যপ্রদেশ
পাঞ্জাব
হরিয়ানা

3.কোন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করলেন লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনাই কুমার সাক্সেনা?
জম্মু ও কাশ্মীর
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ
চণ্ডীগড়
পুদুচেরি

4.2nd Nepal Indigenous Film Festival 2026-এর জন্য নির্বাচিত সিকিমের তৈরি চলচ্চিত্রটির নাম কী?
Tara: The Lost Star
Numahangma
Paatal Lok
The Sikkim Story

5.কোন রাজ্যের দ্বিতীয় সরকারি ভাষার মর্যাদা পেল তুলু?
কেরালা
কর্ণাটক
তামিলনাড়ু
অন্ধ্রপ্রদেশ

6.27th National Youth Parliament Competition-এ বিজয়ী হয়েছে কোন বিদ্যালয়?
JNV Ukhrul-1
JNV Imphal
JNV Kohima
JNV Aizawl

7.Global Dryland Congress 2026-এর থিম কি ছিল?
Transforming Dryland Agriculture with South-South Cooperation
Sustainable Agriculture for a Green Future
Climate Smart Farming for Global Food Security
Water Conservation and Sustainable Development

8.Asian Games 2026-এ মহিলাদের ৪৯ কেজি বিভাগে কীসের মেডেল জিতলেন ভারতীয় ভারোত্তোলক মীরাবাই চানু?
সোনা
রুপো
ব্রোঞ্জ
কোনটিই নয়

9.লাদাখের কার্গিল জেলা থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত প্রথম মহিলা অফিসার হলেন কে?
Stanzin Tsangyang
Stanzin Chodan
Rigzin Angmo
Tsering Dolma

10.World Economic Forum (WEF) দ্বারা প্রকাশিত Global Gender Gap Index 2026-এ ভারতের স্থান কত?
১০১
১১১
১২১
১৩১

❮ Previous 26 September Current 27 September Next ❯ 28 September

Saturday, 26 September 2026

September 26, 2026

WBPSC Miscellaneous Mock Test in Bengali | Free

মিসলেনিয়াস মক টেস্ট | WBPSC Miscellaneous GK Mock Test in Bengali | Part-03

মিসলেনিয়াস মক টেস্ট | WBPSC Miscellaneous GK Mock Test in Bengali | Part-03
WBPSC Miscellaneous Mock Test in Bengali Part-03
কলম ✏
সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আজকের পোস্টে আরও একটি মিসলেনিয়াস জিকে মকটেস্ট শেয়ার করা হলো। এই মকটেস্টে পিএসসি মিসলেনিয়াস পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী মোট ৭৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে।

যারা পিএসসি মিসলেনিয়াস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই মকটেস্টটি নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি অনুশীলনের ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে।

মকটেস্টটিতে অংশগ্রহণ করতে নিচে দেওয়া Start The Quiz বাটনে ক্লিক করুন এবং আপনার প্রস্তুতি যাচাই করে নিন।

WBPSC Miscellaneous GK Mock Test


Miscellaneous GK Mock Test 03
বিষয় জিকে
মোট প্রশ্ন ৭৫টি
সময় ৩০ সেকেন্ড/ প্রশ্ন
GK Quiz Questions

Miscellaneous GK Mock Test 03

Time's Up
score:

Quiz Result

Total Questions:

Attempt:

Correct:

Wrong:

Percentage:

September 26, 2026

Today Current Affairs in Bengali | 26 September 2026

Daily Current Affairs in Bengali - 26 September 2026 for Competitive Exams

Today Current Affairs in Bengali | 26 September 2026
Today Current Affairs in Bengali | 26 September 2026
কলম ✏
সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আজকের 26th September 2026 Current Affairs in Bengali অংশে জাতীয়, আন্তর্জাতিক, খেলাধুলা, পুরস্কার, বিজ্ঞান ও গুরুত্বপূর্ণ দিবস সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হয়েছে। এই প্রশ্নগুলি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

26th September 2026 Current Affairs in Bengali


1.বিশ্ব পরিবেশ স্বাস্থ্য দিবস পালন করা হয় কবে?
২৬শে সেপ্টেম্বর
২৭শে সেপ্টেম্বর
২৮শে সেপ্টেম্বর
২৯শে সেপ্টেম্বর

2.ছত্তিশগড় হাইকোর্টের কততম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাম মহাপাত্র?
১৫
১৬
১৭
১৮

3.Satellite Imaging Technology-এর জন্য মার্কিন পেটেন্ট অর্জনকারী প্রথম ভারতীয় স্টার্টআপ কোনটি?
Skyroot Aerospace
Agnikul Cosmos
GalaxEye
Pixxel

4.ওড়িশার কটকে Sarala Sahitya Sansad কর্তৃক Kalinga Ratna Award 2026-এ ভূষিত হলেন ভারতের কোন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি?
দীপক মিশ্র
রঞ্জন গগৈ
ইউ. ইউ. ললিত
এস. এ. বোবদে

5.কোন কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নিযুক্ত হলেন এন চন্দ্রশেখরন?
Tata Consultancy Services (TCS)
Tata Sons
Tata Motors
Tata Steel

6.Human DNA Analysis-এর জন্য Open-Access Database ‘AlphaGenome Atlas’ লঞ্চ করলো কোন সংস্থা?
OpenAI
Google DeepMind
Microsoft Research
Meta AI

7.Mobilisation AIDS Suraksha (MAS) Campaign-এর অধীনে ‘Surakshit’ মর্যাদা অর্জনকারী মিজোরামের প্রথম ও একমাত্র জেলা কোনটি?
আইজল
সাইতুয়াল
লংতলাই
লুংলেই

8.National Commission for Scheduled Castes (NCSC) এবং National Commission for Backward Classes (NCBC)-এর সেক্রেটারি হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করলেন কে?
সুদাংশু পন্ত
কিশোর মাকওয়ানা
তুহিন কান্ত পাণ্ডে
রাজীব কুমার

9.2026 Borlaug CAST Communication Award-এ ভূষিত হয়েছেন কে?
ড. করিম মারেডিয়া
ড. এম. এস. স্বামীনাথন
ড. রাকেশ কুমার
ড. অশোক দালভাই

10.Asian Games 2026-এ ১০ মিটার এয়ার পিস্তল মিশ্র দলীয় ইভেন্টে কীসের পদক জিতেছেন সুরচি সিং এবং কমলজিৎ?
সোনা
রুপো
ব্রোঞ্জ
কোনটিই নয়


September 26, 2026

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী | Ishwar Chandra Vidyasagar Biography in Bengali

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী PDF | Ishwar Chandra Vidyasagar Biography in Bengali PDF

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী PDF | Ishwar Chandra Vidyasagar Biography in Bengali PDF
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী | Ishwar Chandra Vidyasagar Biography in Bengali
কলম ✏
সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আজকের পোস্টে বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এখানে তাঁর ব্যক্তিজীবন, শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন, সাহিত্যচর্চা, পুরস্কার ও সম্মাননা সহ জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী


জীবনে আজ যতটুকু শিক্ষা হইলো সারা,
আমি নিরুত্তর হয়ে ভাবি, তুমি না থাকিলে সেটুকুও হত কিনা সারা…!!

কি ভাবছেন, কাকে স্বরণ করছি? তিনি হলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রাণপুরুষ তথা বাংলা ভাষার জনক ও বাঙালি জীবনের স্মারক সিংহশিশু ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও যিনি দেখিয়েছেন কর্ম-নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাসকে পাথেয় করে কিভাবে ব্যক্তিত্বশীল পুরুষ হয়ে ওঠা যায়। তিনিই শিখিয়েছেন সমাজকে রক্ষা করতে ও বাঙালি জাতিকে স্বমহিমায় বিরাজ করতে।

পরিচিতি বিবরণ
নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
জন্ম ২৬শে সেপ্টেম্বর, ১৮২০
জন্মস্থান বীরসিংহ গ্রাম, হুগলী জেলা, ব্রিটিশ ভারত
ছদ্মনাম কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য
মৃত্যু ২৯শে জুলাই, ১৮৯১

ব্যক্তি জীবন

ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রাণপুরুষ ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে 'দয়ার সাগর' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রেসিডেন্সির বীরসিংহ গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন (বীরসিংহ গ্রামটি তৎকালীন সময়ে হুগলী জেলার অন্তর্গত হলেও তা অধুনা ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত)। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন পেশায় কলকাতায় স্বল্প বেতনের চাকুরীজিবী ও মাতা ভগবতী দেবী ছিলেন গৃহপত্নী। এ কারণেই বিদ্যাসাগর মহাশয়ের শৈশব জীবন তার মা ও ঠাকুরমা শ্রীমতী দূর্গাদেবীর সঙ্গেই অতিবাহিত হয়। ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে সংস্কৃত কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পঠনরত সময়ে ক্ষীরপাই নিবাসী শত্রুঘ্ন ভট্টাচার্যের কন্যা দীনময়ী দেবীর সহিত বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন।

শিক্ষা জীবন

পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বাল্যশিশু ঈশ্বরচন্দ্রকে মাত্র চার বছর নয় মাস বয়সে গ্রামের সনাতন বিশ্বাসের পাঠশালায় ভর্তি করে দেন। তার পরবর্তীতে ঈশ্বরচন্দ্রের পিতামহ রামজয় তর্কভূষণের উদ্যোগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের কালীকান্ত চট্টোপাধ্যায় নামে এক উৎসাহী জ্ঞানী যুবক বীরসিংহ গ্রামে একটি নতুন পাঠশালা স্থাপন করলে আট বছর বয়সে ঈশ্বরচন্দ্র ঐ পাঠশালায় ভর্তি হন। আদর্শ শিক্ষক কালীকান্তের পাঠশালায় তিনি সেকালের প্রচলিত বাংলা শিক্ষা লাভ করেন।

১৮২৮ সালের নভেম্বর মাসে পাঠশালার শিক্ষা সমাপ্ত করে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য পিতার সঙ্গে কলকাতায় আসেন। কথিত আছে, পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় শিক্ষাগুরু কালীকান্ত মহাশয় ও চাকর আনন্দরামের সহিত পদব্রজে মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় আসার সময় পথের ধারে মাইলফলকে ইংরেজি সংখ্যাগুলি দেখে তিনি সেগুলি অল্প বয়সেই আয়ত্ত করেছিলেন। কলকাতার বড়বাজার অঞ্চলের বিখ্যাত সিংহ পরিবারে থাকাকালীন সময়ে মাত্র নয় বছর বয়সে ১৮২৯ সালের জুন মাসে কলকাতা গভর্মেন্ট সংস্কৃত কলেজে (যা বর্তমানে সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুল নামে পরিচিত) ব্যাকরণের তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। এরপর তিনি একই শ্রেণীতে সাড়ে তিন বছর অধ্যায়ন করেন। এই কলেজে ঈশ্বরচন্দ্রের সহপাঠী ছিলেন বিখ্যাত মদনমোহন তর্কালঙ্কার।

ঈশ্বরচন্দ্র ব্যাকরণ পাঠের পাশাপাশি ১৮৩০ সালে সংস্কৃত কলেজের ইংরেজি শ্রেণিতেও ভর্তি হন। ১৮৩১ সালের মার্চ মাসে বার্ষিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের জন্য মাসিক পাঁচ টাকা হারে বৃত্তি এবং ‘আউট স্টুডেন্ট’ হিসেবে একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ ও আট টাকা পারিতোষিক পান। তিন বছর ব্যাকরণ শ্রেণিতে পঠনপাঠনের পর বারো বছর বয়সে প্রবেশ করেন কাব্য শ্রেণিতে। ১৮৩৩ সালে ‘পে স্টুডেন্ট’ হিসেবেও ঈশ্বরচন্দ্র ২ টাকা পান। ১৮৩৪ সালে ইংরেজি ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ঈশ্বরচন্দ্র বার্ষিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের জন্য ৫ টাকা মূল্যের পুস্তক পারিতোষিক হিসেবে পান। ১৯৩৫ সালের নভেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ থেকে ইংরাজি শিক্ষা উঠিয়ে দেওয়া হলে এখানেই ইংরাজি শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে। দ্বিতীয় বর্ষের সাহিত্য পরীক্ষায় প্রথম স্থানে উত্তীর্ণ হয়ে পনেরো বছর বয়সে অলংকার শ্রেণীতে প্রবেশ করেন। অলংকার শাস্ত্র একটি কঠিন বিষয় হওয়ার সত্ত্বেও মাত্র এক বছরের মধ্যে সাহিত্য দর্পন, কাব্যপ্রকাশ ও রস গঙ্গাধর প্রভৃতি অলংকার গ্রন্থে ব্যুৎপত্তি অর্জন করে।

১৮৩৬ সালে বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার অর্জনের মাধ্যমে অলংকার পাঠ শেষ করেন। ১৮৩৭ সালের মে মাসে ঈশ্বরচন্দ্রের মাসিক বৃত্তি বেড়ে হয় আট টাকা। সে বছরই অর্থাৎ ১৮৩৭ সালে ঈশ্বরচন্দ্র স্মৃতি শ্রেণিতে ভর্তি হন। এই পরীক্ষাতেও তিনি অসামান্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন এবং হিন্দু ল কমিটির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তারপরও পিতার অনুরোধে ভর্তি হন বেদান্ত শ্রেণিতে। ১৮৩৮ সালে বেদান্ত পাঠে প্রথম স্থান অধিকার অর্জনের মাধ্যমে তা সমাপ্ত করেন। সংস্কৃতে শ্রেষ্ঠ গদ্য রচনার জন্য ১০০ টাকা পুরস্কারও পেয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র। ১৮৪০-৪১ সালে ন্যায় শ্রেণিতে পঠনপাঠন করেন ঈশ্বরচন্দ্র। ন্যায় পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে ১০০ টাকা, পদ্য রচনার জন্য ১০০ টাকা, দেবনাগরী হস্তাক্ষরের জন্য ৮ টাকা ও বাংলায় রেগুলেশন বিষয়ক পরীক্ষায় ২৫ টাকা-সর্বসাকুল্যে ২৩৩ টাকা পারিতোষিক পেয়েছিলেন।

কর্ম জীবন

১৮৪১ সালে সংস্কৃত কলেজের শিক্ষা সম্পন্ন করার পর মাত্র একুশ বছর বয়সে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে ৫০ টাকা বেতনে বাংলা বিভাগের প্রধান হিসাবে নিযুক্ত হন। ১৮৪৬ সালের ৫ই এপ্রিল এই পদে দায়িত্ব সামলানোর পর ৬ই এপ্রিল থেকে একই বেতনে সংস্কৃত কলেজে সহকারী সম্পাদকের ভার গ্রহণ করে।

১৮৪৭ সালে গড়ে তোলেন সংস্কৃত প্রেস ডিপজেটরি নামে একটি বইয়ের দোকান এবং বন্ধু মদনমোহনের সম-অংশী দারিত্বে গড়ে তোলেন সংস্কৃত যন্ত্র নামে একটি ছাপাখানা। এখানের তার প্রথম গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশটি প্রকাশিত হয়। ১৮৪৭ সালের জুলাই মাসে কলেজ পরিচালনার কাজে সেক্রেটারি রসময় দত্তের সাথে মতান্তর ঘটলে সংস্কৃত কলেজের সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেন। এরপর ১৮৪৯ সালের মার্চ মাসে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে হেড রাইটার ও কোষাধ‍্যক্ষ পদে চাকুরী গ্রহণ করেন। ১৮৫০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের চাকুরী পরিত্যাগ করে সংস্কৃত কলেজের সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনার কাজ শুরু করেন। ১৮৫১ সালের জানুয়ারি মাসে ঐ কলেজেরই অধ্যক্ষ হিসাবে নিযুক্ত হন। এরপর ১৮৫৩ সালে তার জন্মভূমি বিরসিংহ গ্রামে চালু করেন প্রথম অবৈতনিক বিদ্যালয়। ১৮৫৫ সালের ১৩ই এপ্রিল অর্থাৎ ১৯১২ সংস্কৃত বর্ষের ১লা বৈশাখ বাংলা শিশু পাঠ্য বর্ণমালা শিক্ষাগ্রন্থ বর্ণপরিচয় প্রকাশিত হয়। ঐ বৎসরের জুলাই মাসে সংস্কৃত কলেজের অধীনে নর্ম‍্যাল স্কুল স্থাপন করেন। এরপর দক্ষিণবঙ্গের চার জেলা অর্থাৎ নদীয়া জেলায় ৫টি, হুগলী জেলায় ৫টি, বর্ধমান জেলায় ৫টি ও মেদিনীপুর জেলায় ৪টি বঙ্গবিদ্যালয় স্থাপন করেন। ১৮৫৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য তিনি হুগলী জেলায় ৭টি ও বর্ধমান জেলায় ১টি বালিকা বিদ্যালয় গড়ে তোলেন । এছাড়াও ১৯৫৮ সালে হুগলী জেলায় আরো ১৩টি, বর্ধমান জেলায় ১০টি, মেদিনীপুরে ৩টি ও নদীয়া জেলায় ১টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ১৮৫৮ সালের নভেম্বরে অধিকর্তার সাথে মতবিরোধের জেরে অধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দেন।

শিক্ষা-সমাজ সংস্কার

যুগে যুগে সমাজে যখনই দেখা দিয়েছে সামাজিক সংকট তখনই দেখা দিয়েছে ভগবানের এক রূপ। তেমনি ঈশ্বরচন্দ্রের হাত ধরে এসেছে তৎকালীন সমাজের পুরুষ শাষিত নারীর অত্যাচার থেকে মুক্তি। কারণ তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে নারীশিক্ষার প্রগতি না করতে পারলে নারী সমাজের অগ্রগতি কখনই সম্ভব না। তাই তিনি ১৮৫৭-১৮৫৮ বর্ষে চারটি জেলায় মোট নারী ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এছাড়া বাংলা তথা মাতৃভাষা শিক্ষার অগ্রগতির জন্য তারই তত্ত্বাবধানে নর্মাল স্কুল স্থাপন করেন। এছাড়াও হার্ডিঞ্জের পরিকল্পনা মতো ১০১টি বঙ্গ বিদ্যালয় স্থাপন করেন। বাংলা ভাষার হাতেখড়ি জন্য তিনি বর্ণপরিচয় প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড রচনাও করেন।

মাতা ভগবতী দেবীকে শ্রদ্ধা নিবেদন করার উদ্দেশ্য স্বরূপ নারীমুক্তি আন্দোলনকে পাথেয় করে তোলেন। শাস্ত্রীক নিয়মের দোহাই দেওয়া সমাজপতিদের তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে বিধবা নারীরাও মানুষ, তাদেরও সমাজে বাঁচার অধিকার আছে। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিং এর সহায়তায় রাজা রামমোহন রায় যে 'সতীদাহ প্রথা' রদ করেছিলেন, তারই পন্থা হিসাবে বিদ্যাসাগর মহাশয় ১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই 'বিধবা বিবাহ আইন' পাশও করিয়ে বিধবা নারীদের দেন সমাজে মুক্তির স্বাদ। এমনকি তিনি নিজ খরচে বিধবাদের বিবাহও দিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি তথাকথিত পুরুষ সমাজের বহু বিবাহ রদ করতে চেয়ে ছিলেন।

সাহিত্য চর্চা

১৮৪৭ সালে বেতাল পঞ্চবিংশতী হিন্দি থেকে বাংলা অনুবাদ করার মাধ্যমে তার সাহিত্যচর্চায় খ্যাতি অর্জন করতে থাকে। এরপর তিনি শকুন্তলা, সীতার বনবাস, মহাভারতের উপক্রমনীকা সংস্কৃত থেকে বাংলায় এবং বাঙ্গালার ইতিহাস, জীবন চরিত, নীতিবোধ, বোধদয়, কথামালা ইংরাজি থেকে বাংলায় রচনা করেন।

শিক্ষামূলক গ্রন্থ হিসাবে ১৮৫৫ সালে বর্ণপরিচয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড, ১৮৫১-১৮৫২ তে ঋজুপাঠের ১ম, ২য় ও ৩য় খণ্ড, ১৮৫৩ সালে ব্যাকরণ কৌমদি ও সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা রচনা করেন।
এছাড়াও তার সম্পাদনায় কিছু গ্রন্থ অন্নদামঙ্গল, কুমারসম্ভবম, রঘুবংশম, মেঘদূতম, অভিজ্ঞান শকুন্তলম প্রকাশিত হয়।

এর পাশাপাশি তিনি মৌলিক গ্রন্থও রচনা করেছিলেন; যেমন সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব, ব্রজবিলাস, প্রভাবতী সম্ভাষণ, রত্নপরীক্ষা, শব্দমঞ্জুরী; সমাজসংস্কার মূলক- 'বিধবা বিবাহ চলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব', বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিশয়ক প্রস্তাব' বিষয়ে রচনা করেন।

পুরস্কার ও সম্মাননা

বাঙালি সমাজ তথা সমগ্র ভারতবাসীর কাছে বিদ্যাসাগর মহাশয় আজও এক প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৩৯ সালের ২২ শে এপ্রিল হিন্দু ল কমিটির পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার ফলস্বরূপ ১৬মে ল কমিটির কাছ থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধিটি পান। এছাড়াও তার স্মৃতি রক্ষার্থে এ রাজ্যের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় 'বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়' স্থাপিত হয়েছে, কলকাতায় আধুনিক স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসাবে 'বিদ্যাসাগর সেতু' নামকরণ করা হয়েছে।

জীবনবসান

বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয় লিভারে ক্যানসার আক্ৰান্ত হয়ে ১৮৯১ সালের ২৯শে জুলাই রাত্রি দুটো আঠারো মিনিটে তার কলকাতার বাদুড়বাগানস্থ বাসভবনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
⬇️ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগররের জীবনী PDF ডাউনলোড লিঙ্ক নীচে দেওয়া রয়েছে।
File Details:
  • PDF Name: Ishwar Chandra Vidyasagar Biography
  • Language: Bengali
  • Size: 01 mb 
  • Total Pages: 03

Friday, 25 September 2026

September 25, 2026

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল বেতন | West Bengal Police Constable Salary 2026

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল বেতন কাঠামো | West Bengal Police Constable Salary 2026

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল বেতন কাঠামো | West Bengal Police Constable Salary 2026
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল বেতন | West Bengal Police Constable Salary 2026
কলম ✏ 
সুপ্রিয় বন্ধুরা,
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি করতে আগ্রহী প্রার্থীদের কাছে বেতন ও চাকরির সুযোগ-সুবিধা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কনস্টেবল পদে যোগদানের পর Basic Pay-এর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হয়। চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং নিয়ম অনুযায়ী Increment-এর মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে Basic Pay-ও বৃদ্ধি পায়।

তাই আজকের এই পোস্টে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল বেতন কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো। যারা আগত পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই Salary Structure সম্পর্কে ধারণা থাকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
 

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরি করতে আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য নিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি নিচে দেওয়া হলো–

বিষয় তথ্য
রিক্রুটমেন্ট বোর্ড পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (WBPRB)
পদের নাম পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল
শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক পাশ
বয়সসীমা ১৮ থেকে ২৭ বছর
আবেদন মাধ্যম অনলাইন
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট prb.wb.gov.in

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের একাধিক ধাপের পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলি হলো–
  1. লিখিত পরীক্ষা
  2. শারীরিক পরিমাপ পরীক্ষা (PMT)
  3. শারীরিক দক্ষতা পরীক্ষা (PET)
  4. ইন্টারভিউ
  5. ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন
  6. মেডিক্যাল পরীক্ষা
প্রতিটি ধাপে সফলভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তী ধাপের জন্য বিবেচনা করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল বেতন

বর্তমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল পদটি Pay Level-6-এর আওতাভুক্ত। এই Pay Level-এ Basic Pay 22,700/- থেকে শুরু হয় এবং Pay Matrix অনুযায়ী ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়ে 58,500/- পর্যন্ত যেতে পারে।

Basic Pay-এর পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর্মীরা Dearness Allowance (DA), House Rent Allowance (HRA), Medical Allowance ইত্যাদি সুবিধা পেয়ে থাকেন।

বেতনের বিষয় পরিমাণ
Pay Level Level-6
Pay Scale 22,700/- – 58,500/-
Basic Pay 22,700/-
HRA (12%) 2,724/-
DA (38%) ₹8,626/-
Medical Allowance (MA) 500/-
মোট 34,550/-

অর্থাৎ, চাকরির শুরুতে Basic Pay, DA, HRA এবং Medical Allowance মিলিয়ে মাসিক মোট বেতন প্রায় 34,550/- টাকা।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল In-Hand Salary

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল পদে কর্মরতদের Gross Salary থেকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের Deduction বা কর্তন করা হতে পারে। এর মধ্যে GPF, Professional Tax ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ফলে Gross Salary এবং কর্মীর হাতে পাওয়া Net বা In-Hand Salary-এর মধ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকে।
 
মাসিক বেতন থেকে সম্ভাব্য Deduction-এর একটি হিসাব নিচে দেওয়া হলো–

Deduction পরিমাণ
GPF (6%) 1,362/-
Professional Tax 150/-
মোট 1,512/-

সেক্ষেত্রে 34,550/- Gross Salary থেকে 1,512/- মোট Deduction বাদ দিলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল পদে মাসিক In-Hand Salary দাঁড়ায় প্রায় 33,038/- টাকা।
নোট: In-Hand Salary প্রত্যেক কর্মীর ক্ষেত্রে একই নাও হতে পারে। প্রযোজ্য Deduction, Allowance এবং অন্যান্য সরকারি নিয়মের কারণে হাতে পাওয়া প্রকৃত বেতন কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।