জেনে রাখা ভালো
August 15, 2026
ভারতের জাতীয় পতাকা | ইতিহাস, বর্ণনা, ব্যবহারের নিয়ম
ভারতের জাতীয় পতাকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা | National Flag of India Details in Bengali
কলম ✏
সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আজকের পোস্টে ভারতের জাতীয় পতাকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এখানে ভারতের জাতীয় পতাকার ইতিহাস, বর্ণনা ও বৈশিষ্ট্য, তিনটি রঙের তাৎপর্য, অশোক চক্র, পতাকার অনুপাত এবং Flag Code of India অনুযায়ী জাতীয় পতাকা ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলি সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
তাই আর দেরি না করে পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ে ভারতের জাতীয় পতাকার ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত ও সঠিক ধারণা অর্জন করুন।
তাই আর দেরি না করে পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ে ভারতের জাতীয় পতাকার ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত ও সঠিক ধারণা অর্জন করুন।
National Flag of India Details in Bengali
জাতীয় পতাকা
জাতীয় পতাকা হলো কোনো স্বাধীন দেশ বা জাতির সার্বভৌমত্ব, ঐক্য, ঐতিহ্য, মর্যাদা ও গৌরবের প্রতীক। এটি একটি দেশের পরিচয় ও সম্মানের অন্যতম প্রধান জাতীয় প্রতীক।
ভারতের জাতীয় পতাকার ইতিহাস
১৯০৬ সালের ৭ আগস্ট কলকাতার পার্সি বাগানে ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকাটি সবুজ, হলুদ ও লাল—এই তিনটি অনুভূমিক রঙের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। এর উপরের সবুজ অংশে আটটি সাদা পদ্মফুল, মাঝের হলুদ অংশে দেবনাগরী লিপিতে নীল রঙে ‘বন্দেমাতরম্’ লেখা এবং নিচের লাল অংশের একদিকে সাদা সূর্য ও অন্যদিকে অর্ধচন্দ্র অঙ্কিত ছিল।
নিচে ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকার ছবি দেওয়া হলো।
![]() |
| ভারতের জাতীয় পতাকা (১৯০৬) |
১৯০৭ সালে প্যারিসে ভিকাজি রুস্তম কামা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে একটি পতাকা উত্তোলন করেন। আগের পতাকার তুলনায় এই পতাকার নকশায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়। পতাকাটি গেরুয়া, হলুদ ও সবুজ—এই তিনটি অনুভূমিক রঙের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। উপরের গেরুয়া অংশে আটটি সাদা পদ্মফুল, মাঝের হলুদ অংশে দেবনাগরী লিপিতে কালো রঙে ‘বন্দেমাতরম্’ লেখা এবং নিচের সবুজ অংশের একদিকে সাদা সূর্য ও অন্যদিকে অর্ধচন্দ্র অঙ্কিত ছিল।
নিচে পতাকাটির ছবি দেওয়া হলো।
নিচে পতাকাটির ছবি দেওয়া হলো।
![]() |
| ভারতের জাতীয় পতাকা (১৯০৭) |
১৯১৭ সালে হোম রুল লীগ-এর নেতা বাল গঙ্গাধর তিলক ও অ্যানি বেসান্ত ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য একটি নতুন পতাকা প্রবর্তন ও উত্তোলন করেন। এই পতাকাটি পূর্ববর্তী পতাকাগুলির তুলনায় ভিন্ন নকশার ছিল এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
নিচে পতাকাটির ছবি দেওয়া হলো।
![]() |
| ভারতের জাতীয় পতাকা (১৯১৭) |
১৯২১ সালে বিজয়ওয়াড়ায় অনুষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে ভারতের একটি নতুন জাতীয় পতাকা উপস্থাপন করা হয়। অন্ধ্রপ্রদেশের পিঙ্গলি ভেঙ্কাইয়া এই পতাকার নকশা তৈরি করে মহাত্মা গান্ধীর হাতে তুলে দেন। পতাকাটি সাদা, সবুজ ও লাল—এই তিনটি রঙের সমন্বয়ে গঠিত ছিল।
নিচে পতাকাটির ছবি দেওয়া হলো।
![]() |
| ভারতের জাতীয় পতাকা (১৯২১) |
১৯৩১ সালে ভারতের জাতীয় পতাকার নকশায় আবার পরিবর্তন আনা হয়। এই পতাকাটি বর্তমান জাতীয় পতাকার সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। এতে গেরুয়া, সাদা ও সবুজ—এই তিনটি অনুভূমিক রঙ ব্যবহার করা হয় এবং মাঝের সাদা অংশে চরকা অঙ্কিত ছিল। পরবর্তীকালে এই পতাকার নকশার ভিত্তিতেই বর্তমান জাতীয় পতাকা গৃহীত হয়।
নিচে পতাকাটির ছবি দেওয়া হলো।
![]() |
| ভারতের জাতীয় পতাকা (১৯৩১) |
১৯৪৭ সালের ৩ জুন ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা করে যে ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করবে। এরপর স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকার নকশা নির্ধারণের জন্য গণপরিষদ একটি অস্থায়ী কমিটি গঠন করে।
পরবর্তীকালে ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই গণপরিষদে ভারতের বর্তমান জাতীয় পতাকার নকশা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এই পতাকার মূল নকশা তৈরি করেছিলেন পিঙ্গলি ভেঙ্কাইয়া। এরপর ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট মধ্যরাতে, স্বাধীনতার প্রাক্কালে এই জাতীয় পতাকা গণপরিষদের হাতে জাতির উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্পণ করা হয়।
নিচে ভারতের বর্তমান জাতীয় পতাকার ছবি দেওয়া হলো।
![]() |
| ভারতের জাতীয় পতাকা (১৯৪৭) |
ভারতের জাতীয় পতাকার বর্ণনা
ভারতের জাতীয় পতাকাটি তিনটি রঙের সমন্বয়ে গঠিত হওয়ায় একে ‘ত্রিরঙা’ (Tricolour) বলা হয়। এটি একটি আয়তাকার পতাকা, যার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ৩ : ২। পতাকাটি সমান আকারের তিনটি অনুভূমিক রঙিন অংশ নিয়ে গঠিত। উপরের অংশটি গেরুয়া, মাঝের অংশটি সাদা এবং নিচের অংশটি গাঢ় সবুজ রঙের।
পতাকার সাদা অংশের মাঝখানে গাঢ় নীল রঙের ২৪টি কাঁটাবিশিষ্ট অশোকচক্র অঙ্কিত রয়েছে। এই চক্রটি সম্রাট অশোকের সারনাথের সিংহস্তম্ভের ধর্মচক্রের অনুকরণে তৈরি, তাই একে অশোকচক্র বলা হয়।
জাতীয় পতাকার প্রতিটি রঙ এবং অশোকচক্রের নিজস্ব প্রতীকী অর্থ রয়েছে। যেমন—
পতাকার সাদা অংশের মাঝখানে গাঢ় নীল রঙের ২৪টি কাঁটাবিশিষ্ট অশোকচক্র অঙ্কিত রয়েছে। এই চক্রটি সম্রাট অশোকের সারনাথের সিংহস্তম্ভের ধর্মচক্রের অনুকরণে তৈরি, তাই একে অশোকচক্র বলা হয়।
জাতীয় পতাকার প্রতিটি রঙ এবং অশোকচক্রের নিজস্ব প্রতীকী অর্থ রয়েছে। যেমন—
- গেরুয়া — শৌর্য, ত্যাগ ও আত্মনিবেদনের প্রতীক।
- সাদা — সত্য, শান্তি ও পবিত্রতার প্রতীক।
- গাঢ় সবুজ — সমৃদ্ধি, কর্মশক্তি ও জীবনীশক্তির প্রতীক।
- অশোকচক্র — ন্যায়, অগ্রগতি এবং অবিরাম গতিশীলতার প্রতীক।
জাতীয় পতাকা ব্যবহারের নিয়ম
ভারতের Flag Code of India অনুযায়ী জাতীয় পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলতে হয়। যেমন—
- জাতীয় পতাকা যেখানে উত্তোলন করা হবে, সেখানে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে স্বতন্ত্রভাবে প্রদর্শন করতে হবে।
- পতাকার গেরুয়া রঙের অংশটি সবসময় উপরের দিকে থাকবে।
- কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে জাতীয় পতাকা নত করা যাবে না।
- যদি অন্যান্য পতাকার সঙ্গে এক সারিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়, তবে জাতীয় পতাকাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রদান করতে হবে।
- জাতীয় শোক ঘোষণা বা কোনো বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
- ছেঁড়া, ফাটা, নোংরা বা বিবর্ণ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা যাবে না।
- কুঞ্চিত (ভাঁজ করা) অবস্থায় জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা উচিত নয়।
- জাতীয় পতাকার সঙ্গে একই দণ্ডে অন্য কোনো পতাকা উত্তোলন করা যাবে না।
- জাতীয় পতাকার চেয়ে বেশি উচ্চতায় অন্য কোনো পতাকা উত্তোলন করা যাবে না।
বিশেষ তথ্য: Flag Code of India, 2022 অনুযায়ী, নির্ধারিত মর্যাদা বজায় রেখে দিন ও রাত উভয় সময়েই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে রাখা যাবে।
ভারতের জাতীয় পতাকা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
প্রশ্নঃ ভারতের জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য প্রস্থ কত?
উত্তরঃ ভারতের পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ৩:২।
প্রশ্নঃ ভারতের জাতীয় পতাকার নকশা কে করেন?
উত্তরঃ পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া।
প্রশ্নঃ ভারতের জাতীয় পতাকা কবে গৃহীত হয়?
উত্তরঃ ১৯৪৭ সালের ২২শে জুলাই।
প্রশ্নঃ আইন অনুযায়ী ভারতের জাতীয় পতাকা কোন কাপড়ে তৈরি হয়?
উত্তরঃ খাদি কাপড়ে।
প্রশ্নঃ ভারতীয় জাতীয় পতাকার নকশা কোন পতাকা থেকে গ্রহণ করা হয়?
উত্তরঃ পতাকাটির নকশা প্রস্তুত করা হয়েছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া কৃত ‘স্বরাজ’ পতাকার আদলে।
প্রশ্নঃ ভারতের জাতীয় পতাকার ছবি কবে প্রথম ডাকটিকিটে স্থান পেয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৪৭ সালের ২২শে নভেম্বর।
তথ্য সংগ্রহ: পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদের ষষ্ঠ শ্রেণির স্বাস্থ্য ও শারীরশিক্ষা বই












